কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ এ ০৫:১৮ PM
কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ০৯-০৮-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ১৮-০৮-২০৩০
মাতারবাড়ি (কক্সবাজার), ০৯ আগস্ট: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়িতে অবস্থিত ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মাতারবাড়ি আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারযোগে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। পরে তিনি প্রকল্পের প্রশাসনিক ভবনে যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পরিচালন কার্যক্রম, উৎপাদন সক্ষমতা, জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা, প্ল্যান্টের পরিচালন দক্ষতা, রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তাঁর সামনে তুলে ধরা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন যে মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি শতভাগ দেশীয় প্রকৌশলী ও জনবল দ্বারা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এতে তিনি গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশীয় প্রকৌশলী ও কর্মীদের অনন্য দক্ষতা ও সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাঁদের অনুপ্রেরণা জোগান। এ সময় প্রকল্প এলাকায় প্রধানমন্ত্রী একটি নিমের চারা রোপণ করেন।
উল্লেখ্য, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দুটি ৬০০ মেগাওয়াট ইউনিটের সমন্বয়ে মোট ১,২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন, যেখানে পরিবেশবান্ধব আধুনিক আলট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল (Ultra-Supercritical) প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা পরিবহনের জন্য বন্দর সুবিধা, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, অ্যাকসেস রোড এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (JICA) ঋণ সহায়তা দিয়েছে।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে ব্রিফিং শেষে প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনা ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনে বের হন। দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তিনি প্রস্তাবিত ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং ১২টা ২৯ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁকে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা সম্পর্কে অবহিত করেন। একই এলাকায় প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাবিত এলএনজি-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পেট্রোকেমিক্যাল প্রকল্প এবং নতুন রিফাইনারির জন্য নির্ধারিত স্থানও দেখানো হয়।

এরপর প্রধানমন্ত্রী এলপিজি, এলএনজি ও কয়লা টার্মিনাল-সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তিনি বিস্তারিত তথ্য নেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত ও দিকনির্দেশনা দেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী কোল জেটি পরিদর্শন করে সেখান থেকে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর, এলএনজি টার্মিনাল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিভিন্ন স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া তিনি প্রস্তাবিত অস্থায়ী এলপিজি জেটি এবং ভবিষ্যতে ৩ ও ৪ নম্বর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন। দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে পরিদর্শন সমাপ্ত হয়।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ও দক্ষ ব্যবহার, প্রকল্প পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত জ্বালানি পরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পাঞ্চলের পরিকল্পিত সমন্বয় দেশের শিল্পায়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেন।
"দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃহৎ অবকাঠামো পরিচালনার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সক্ষমতা, পরিবেশগত প্রভাব এবং জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।"
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলে উপস্থিত ছিলেন:
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থমন্ত্রী
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামসুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা
আতিকুর রহমান রুমন, অতিরিক্ত প্রেস সচিব
বেলায়েত হোসেন মৃধা, বিশেষ রাজনৈতিক সম্পাদক
